আন্তর্জাতিক বাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের গড় দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে এ ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। খবর এনজেড হেরাল্ড।
ফন্টেরার (নিউজিল্যান্ডের খামারিদের মালিকানাধীন একটি বহুজাতিক ডেইরি প্রতিষ্ঠান) ফার্মগেট (কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ মূল্য) দুধের মূল্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ। জিডিটির সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৪ হাজার ৬২ ডলারে।
ফন্টেরার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেফারেন্স পণ্য ননিবিহীন গুঁড়া দুধ। এবারের নিলামে পণ্যটির মূল্য সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এ সময় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে গড় মূল্য পৌঁছেছে টনপ্রতি ২ হাজার ৮৭৬ ডলারে।
জিডিটি নিলামে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। টনপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৬ হাজার ৭০৫ ডলারে। চেডার পনিরের মূল্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে টনে ৫ হাজার ১৮ ডলারে পৌঁছেছে।
তবে জিডিটির সর্বশেষ নিলামে বেশ কয়েকটি দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নিম্নমুখী হয়েছে বাটার মিল্ক পাউডারের দাম। এ সময় পণ্যটি বেচাকেনা হয়েছে টনপ্রতি ২ হাজার ৮০৭ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কম। আগের নিলামে মোজারেলা পনিরের দাম বেড়েছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ। এবার তা ৪ শতাংশ কমে গড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ৫১৭ ডলারে স্থির হয়েছে।
এ সময় ল্যাকটোজ ও মাখনের দাম কমেছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৬ ও ১ দশমিক ২ শতাংশ। পণ্য দুটির গড় মূল্য স্থির হয়েছে টনপ্রতি যথাক্রমে ১ হাজার ১৩২ ও ৭ হাজার ৬০২ ডলারে।
জিডিটির সর্বশেষ নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের গড় দাম বাড়লেও বেচাকেনা কমেছে। এ সময় মোট ১৭ হাজার ৬৪৩ টন পণ্য বেচাকেনা হয়েছে, আগের নিলামে যা ছিল ১৯ হাজার ৫৪০ টন।
এদিকে গত ২০ মার্চ ফন্টেরা ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য ফার্মগেট দুধের মূল্য সম্পর্কিত পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। এ সময় দুধের ফার্মগেট মূল্য কেজিএমএসে (কিলোগ্রাম অব মিল্ক সলিডস) ৯ ডলার ৭০ থেকে ১০ ডলার ৩০ সেন্টে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর ফন্টেরা ফার্মগেট দুধের দাম কেজিএমএসে ৯ ডলার ৫০ থেকে ১০ ডলার ৫০ সেন্টে থাকতে পারে বলে জানিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, দুগ্ধপণ্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। এটি দেশটির অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। কারণ দেশটির জিডিপির বড় একটি অংশ আসে দুগ্ধজাত পণ্য থেকে।